কাদা আর পানি ডিঙিয়েই ক্রেতারা সেখানে যান সেকেন্ড হ্যান্ড বা ব্যবহৃত কাপড়ের খোঁজে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীন থেকে যাওয়া এ পুরনো কাপড়ের ব্যবসা এখন পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সস্তা কাপড়ের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় ফ্যাশন শিল্প কিছুতেই দাঁড়াতে পারছে না। খবর বিবিসি।
কেনিয়ার পোশাক ব্র্যান্ড ‘জিয়া আফ্রিকা’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়া বেট বলেন, ‘ব্যবহৃত কাপড়ের দাম এত কম যে আমরা মূল্যের দিক থেকে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছি না।’
তানজানিয়ার দার এস সালামের ব্যবসায়ী এলিজাবেথ পলও একই কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে একটি পোশাকের দাম ১৯ ডলার ২০ সেন্ট। কিন্তু ক্রেতারা দাম শুনেই বলেন সমপরিমাণ ডলারে ১০টি পুরনো কাপড় কেনা যায়।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় এক দশক আগে পূর্ব আফ্রিকার জোট (ইএসি) এ পুরনো কাপড় আমদানি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে তা সফল হয়নি, তবে সম্প্রতি এ বিতর্ক ফের নতুন করে শুরু হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় শিল্পকে বাঁচাতে ও পরিবেশ রক্ষায় উগান্ডা সরকার ব্যবহৃত কাপড়ের ওপর নতুন করে ৩০ শতাংশ পরিবেশ কর বসিয়েছে। উগান্ডায় বর্তমানে আমদানীকৃত পুরনো কাপড়ের ওপর মোট ৩৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ১৮ শতাংশ ভ্যাট ও নতুন ৩০ শতাংশ কর কার্যকর রয়েছে।
কেনিয়ায় স্থানীয়ভাবে পুরনো কাপড়কে ‘মিতুম্বা’ বলা হয়। বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে বড় ব্যবহৃত কাপড়ের আমদানিকারক দেশ কেনিয়া। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন পুরনো কাপড় আমদানি করেছে, যা ২০১৩ সালের তুলনায় ৭৬ শতাংশ বেশি।